আল্লাহপাকের সাহায্য ও সফলতা লাভের উপায়

0

ইসলাম ডেস্ক-সারা বিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহতায়ালার সাহায্যের মুখাপেক্ষি।
এ বিশ্বাস অন্তরে স্থাপন ঈমানের অংশবিশেষ। জীবন চলার পথে নানা সময়ে মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় পতিত হয়। কষ্ট পায়, অসুস্থ হয়।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ যেন আল্লাহর…

বিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহতায়ালার সাহায্যের মুখাপেক্ষি।
এ বিশ্বাস অন্তরে স্থাপন ঈমানের অংশবিশেষ। জীবন চলার পথে নানা সময়ে মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় পতিত হয়। কষ্ট পায়, অসুস্থ হয়।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ যেন আল্লাহর মুখাপেক্ষি হয়ে তার সাহায্য কামনা করে সমস্যামুক্ত হয়- সে পথ বলে দিয়েছেন।

কোন পথে, কীভাবে মানুষ আল্লাহর সাহায্য কামনা করবে,
সেই উপায় ও পথও আল্লাহ বলে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
‘ তোমরা নামাজ ও সবরের (ধৈর্য) মাধ্যমে আমার (আল্লাহর) সাহায্য কামনা করো। নিশ্চয়ই খোদাভীরু ছাড়া এটা অবশ্যই কঠিন কাজ।’

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণের জন্য
সবর ও নামাজের মাধ্যমে তার কাছে সাহায্য প্রার্থনার নির্দেশ দিচ্ছেন।

এই আয়াতাংশ আমাদের উত্তমরূপে অনুধাবন করা প্রয়োজন।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আবু বকর আল জাসসাস ‘আহকামুল কুরআন’ তাফসিরে লিখেছেন,
এর অর্থ আল্লাহ যা ফরজ করেছেন, সেসব ফরজ কাজ অত্যন্ত ধৈর্য-সহকারে আদায় করতে থাকা। আর তার হুকুম অমান্য করা থেকে বিরত থাকা।

আয়াতে নামাজের পাশাপাশি এসেছে সবরের কথা। পবিত্র কোরআনে সবর শব্দটির অর্থ ব্যাপক।
হাদিসে এর ব্যবহার এসেছে ব্যাপক অর্থে।
যেমন কোথাও এসেছে ধৈর্যধারণ অর্থে; যেমন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘যে মুসলমান মানুষের সঙ্গে একাত্ম ও একত্র হয়ে বসবাস করে এবং তাদের সদ্ভাব ও যন্ত্রণায় ধৈর্যধারণ করে,
সে ব্যক্তি ওই মানুষের চেয়ে উত্তম, যে অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করে না….।’

কোথাও সবর এসেছে দৃঢ়তা অর্থে; যেমন হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
‘হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা করো না, আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার প্রার্থনা করো।
কিন্তু যখন শত্রুর সম্মুখীন হও, তখন ধৈর্য ও দৃঢ়তা প্রকাশ করো।

আসলে সবর এমন একটি শব্দ যা নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশব্দে প্রকাশ করা বা বুঝানো কঠিন।
এ শব্দটি যেসব ব্যঞ্জনাময় অর্থ প্রকাশ করে তার মধ্যে রয়েছে-

১. পরিপূর্ণতা বিধানের জন্য সহিষ্ণুতা, অধীর না হওয়া।
২. সহিষ্ণুতা, অধ্যাবসায়, দৃঢ় সংকল্প, স্থিরতা- উদ্দেশ্য সাধনে কঠিন হওয়া।
৩. আকস্মিক বা দৈব কার্যকরণের বিপরীতে সুবিন্যস্ত বা প্রণালীবদ্ধভাবে কার্য সম্পাদন করা।
৪. দুঃখ, পরাজিত বা ভোগান্তি অবস্থায় বিরক্ত ও বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন না হয়ে এসব অবস্থা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণপূর্বক
আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং অলস ও উদাসীন না হয়ে অবিরত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

বস্তুত সৎ ও পুণ্যের পথে চলা যদি কারো পক্ষে কষ্টকর বলে মনে হয়,
তবে এর একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে ধৈর্য-সহিষ্ণুতা ও নামাজ।
আর এ দুটি কাজ থেকে মুমিন-মুসলমানরা যে শক্তি লাভ করবে; সেটা তার পথচলাকে সহজতর করে দেবে।

সবর এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিরত রাখা ও বাধা দেওয়া। আর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে- ইচ্ছার দৃঢ়তা,
সংকল্পের পরিপক্কতা এবং লালসা-বাসনা নিয়ন্ত্রণ।
যে ইচ্ছার মাধ্যমে কোনো মানুষ তার লালসা ও বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে নিজের মনোনীত পথে অব্যাহত গতিতে অগ্রসর হতে পারে। এখানেই সবরের তাৎপর্য নিহিত।

কারণ, বর্ণিত গুণ নিজের মধ্যে জাগিয়ে অন্তরকে শক্তিশালী করার জন্য রীতিমত সাধনা আবশ্যক। আর ওই সাধনা হতে হবে নিরবচ্ছিন্ন, সংগ্রামমুখর ও কষ্টসাধ্য। তাই তো সবরের কথা বারবার বলা হয়েছে।

অনেকে সবরের অর্থ বলেছেন, আল্লাহর মর্জির ওপর তাকে খুশি করার জন্য ধৈর্যধারণ। আর ধৈর্যশীলতাই তো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পথ। এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, ‘জ্ঞানপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বলল, তোমাদের জন্য আক্ষেপ! ঈমানদার লোকদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার উত্তম, ধৈর্যশীল ছাড়া তার সাক্ষাৎ পাবে না।’

আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার দ্বিতীয় উপায় হলো নামাজ আদায়। শেষ নবী হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাস্তব জীবনই এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইবনে জারির (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো কারণে অস্থির হয়ে পড়তেন, তখন তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

বনি ইসরাঈলদের নেককার লোকেরাও নিষ্ঠার সঙ্গে নামাজ আদায় করত। সাহাবিরা এ আমল করেছেন। আমাদের পূর্ববর্তী আলেম-উলামা ও অলি-আউলিয়াদেরও তেমন অভ্যাসই ছিল। পরবর্তী সময়ে মানুষ যখন নামাজের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন শুরু করল, তখন তাদের ওপর আজাব-গজব আসতে লাগল।

তাই আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে ও আল্লাহর সাহায্য পেতে নামাজ ও সবরের ওপরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। আর তা হলেই কেবল মহান আল্লাহতায়ালার অবারিত সাহায্য নেমে আসবে। আল্লাহতায়ালা দুনিয়াবাসীর জন্য তার অসীম রহমতের দ্বার খুলে দিন। আমিন।

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর এক ডাক্তারকে স্যার না বলায় সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর এর ডা. এ এস এম তানজিরুল ইসলাম রায়হানকে স্যার না বলায় দুর্গাপুর প্রেসক্লারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ও সাংবাদিক সাহাদত হোসেন কাজলের সাথে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্গাপুর এলাকার অসহায় রিক্সা চালক তারা মিয়ার স্ত্রী নাজমাকে মুমুর্ষ অবস্থায় দুর্গাপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

এসময় কাজল ওই রোগী নিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলতে গেলে ‘ডাক্তারকে স্যার সম্বোধন না করায়’ ওই সাংবাদিকের সাথে রুঢ় আচরণ করে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে রোগীকে বিদায় করে দেন।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, আমি জরুরি কাজে ময়মনসিংহে চলে এসেছি। আগামীকাল এসে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন সাংবাদিকদের বলেন, এই ডাক্তার সম্পর্কে আমি আরো অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

কমেন্ট করুণ

দয়া করে আপনার কমেন্ট করুণ
দয়া করে আপনার নাম দিন