ব্যুরো প্রধান, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একের পর এক ঘুষ, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও তিনি বারবার ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’র পুরস্কার পাচ্ছেন।
এতে বিস্মিত স্থানীয় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
মাদক হটস্পট হিসেবে পরিচিত উপজেলাটিতে বড় কোনো মাদক চালান ধরতে না পারলেও অভিযোগ রয়েছে, মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাসোহারা উঠছে থানার ছত্রছায়ায়।
স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র মানুষের মামলা না নেওয়া, মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা, মাসিক মাসোহারার নামে চাঁদাবাজি, প্রভাবশালী মহলের তোষামোদ এবং নিয়মিত ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ওসি রুহুল আমিন নিজের অবস্থান শক্ত করে রেখেছেন।
অথচ এসব অভিযোগের কোনও তদন্ত বা ব্যবস্থা না নিয়ে একাধিকবার তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শ্রীমন্তপুর এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে জুবায়ের অভিযোগ করে বলেন, তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার চাচাতো মামা এসআই সেলিম রেজার প্রভাবে ওসি রুহুল আমিন তাকে নাশকতা মামলায় জড়ান।
এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করে ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি আদালতের নিযুক্ত রিসিভার হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পুকুর লিজ প্রদান করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে।
দিগরাম মৌজার একটি ৪ একর আয়তনের পুকুর ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছেন জিয়ারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “গত ১০ বছর ধরে আমি নিয়মিত পুকুরটি লিজ নিচ্ছি এবং প্রতি বছর থানায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে আসছি।” এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও আছে বলে দাবি করেন তিনি।
জিয়ারুল আরও বলেন, “এটা নতুন কিছু না। প্রতি বছরই দেই। আপনারা এটা নিয়ে নিউজ না করলেই ভালো।
আরও অনেক কিছু আছে, ওসি সাহেবের বিরুদ্ধে ওগুলো লিখুন, এটা বাদ দিন।”
এলাকাবাসী বলছেন, গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কার্যক্রম প্রায় অকার্যকর।
কয়েকজন মাদক কারবারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, থানায় টাকা দিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালানো যায়।
অভিযানে জব্দ করা মাদকের একাংশ আবার টাকার বিনিময়ে ফেরত দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।
এসব মাসোহারা আদায়ে থানার একজন এসআই দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
এক ব্যক্তি জানান, “আমি একবার আওয়ামী লীগের একটি প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম।
সেই ছবি দেখিয়ে ওসি সাহেব বলেন, আপনি বিএনপির লোকের সঙ্গে ছিলেন। টাকা না দিলে মামলা হবে। পরে টাকা দিয়েই রক্ষা পাই।”
বিএনপি সমর্থকরাও একই অভিযোগ করেছেন।
তাদের দাবি, থানায় পরিচিত কেউ না থাকলে ‘মামলার ভয়’ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
ওসি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তার বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উল্টো তিনি একাধিকবার জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন, যা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওসি রুহুল আমিন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিইনি।
মাদকের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত না। মাসোহারা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বর্তমানে অসুস্থ ও ছুটিতে আছি। বক্তব্য নিতে হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
তবে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, গোদাগাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন সৎ, সাহসী ও নিরপেক্ষ অফিসার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের নীরবতা ও একের পর এক পুরস্কার শুধুমাত্র একজন ওসিকেই নয়, পুরো পুলিশের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |