অপু কিরণঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একটি ঘরে জমা গ্যাসের বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। তারা রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে কাঁচপুর বিসিক শিল্পাঞ্চলের ৩ নম্বর গলির একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
‘ঘরের ভেতর থাকা সিলিন্ডারের লাইনের লিকেজ থেকে জমা গ্যাস’ এ বিস্ফোরণের কারণ বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কাঁচপুর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।
সকালে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের পর ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, “ঘরটির ভেতরেই রান্নার চুলা। একটি গ্যাস সিলিন্ডার সেখানে পাওয়া গেছে। চুলার সঙ্গে গ্যাসের অন্য কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। নিচতলায় ঘর হওয়াতে চুরির ভয়ে হয়তো রাতে দরজা-জানালা বন্ধ ছিল এবং সিলিন্ডারের লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে চেম্বারের মতো হয়ে যায় এবং ভোরে আগুনের কোনো উৎস পেয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।”
আগুনের ঘটনায় দগ্ধরা হলেন: গৃহকর্তা মানব চৌধুরী (৪০), তার স্ত্রী বাচা চৌধুরী (৩৮), তাদের তিন কন্যা তিন্নি (১২), মুন্নি (১৪) ও মৌরি (৬)।
তাদের মধ্যে মানবের শরীরের ৭০ শতাংশ, তার স্ত্রীর ৪৫ শতাংশ, কন্যা তিন্নির ২২ শতাংশ, মুন্নির ২৮ শতাংশ এবং মৌরির ৩৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানান জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশী সবিনয় দাস বলেন, “মানব একটি ওষুধ কোম্পানিতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করতো। পরিবার নিয়ে বাড়িটির নিচতলায় ভাড়া থাকতো। একটাই ঘর, সেটার ভেতরেই রান্নাঘর ও বাথরুম। ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে তারা সবাই পুড়ে যায়। আমি তাড়াতাড়ি গাড়ির ব্যবস্থা কইরা হাসপাতালে আনি।”
“তাগো কারও অবস্থাই ভালো না। ডাক্তার রক্ত জোগার করতে বলছে। আমি রক্তের লাইগা দৌঁড়াইতাছি”, যোগ করেন সবিনয়।
উল্লেখ্য, কয়েক কিলোমিটার দূরে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী পূর্বপাড়া এলাকার একটি টিনসেডের ঘরে গত ২৩ আগস্ট এক বিস্ফোরণে দুই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জন মারা গেছেন
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |